‘আব্বা ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করে। যখন আগুন লাগার ঘটনা ঘটে, তারপর ঘটনাস্থলে গিয়া খোঁজাখুঁজি করে আব্বার ভ্যান পাইছি। তখন আমি আব্বা, আব্বা করে ডাকতে থাকি। কিন্তু আব্বারে আর পাইলাম না।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিল সাভারের আশুলিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত সবজি বিক্রেতা নজরুল ইসলামের (৩৫) একমাত্র ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণিপড়ুয়া সামিউল ইসলাম (১৩)।

গতকাল রোববার রাতে প্রিটি গ্রুপের প্রিটি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড কারখানা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

নজরুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে। আট বছর আগে পরিবার নিয়ে আশুলিয়ায় এসে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। সবজি বিক্রি করে তিনি সংসার চালাতেন।

আজ সোমবার দুপুরে মুঠোফোনে কথা হয় সামিউলের সঙ্গে। সে বলে, তার বাবা প্রতিদিন বেলা তিনটার দিকে ভ্যানে করে সবজি নিয়ে গার্মেন্টসের সামনে রাস্তায় বিক্রি করেন। আর ১০টার দিকে বাড়ি ফেরেন। গতকাল আগুন লাগার পর সে গিয়ে বাবার ভ্যান পায়। পরে একজন তাকে বলে তার বাবাকে হাসপাতালে (আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতাল) নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে সে তার বাবাকে খুঁজে পায়নি। একটু পর সে দেখতে পায়, একজন রিকশায় করে তার বাবাকে নিয়ে আসছে।

বিস্ফোরণের পর আশপাশের বিভিন্ন ভবনের ওপর ছিটকে পড়ে সিলিন্ডার। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি স্থাপনা। আজ দুপুরে তোলা

বিস্ফোরণের পর আশপাশের বিভিন্ন ভবনের ওপর ছিটকে পড়ে সিলিন্ডার। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি স্থাপনা। আজ দুপুরে তোলা

নজরুলকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ওই ঘটনায় সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

ওই দুর্ঘটনায় নজরুল মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন জানিয়ে নজরুলের মামা হানিফ বলেন, নজরুলের সাজানো–গোছানো সংসার ছিল। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে স্কুলে পড়াশোনা করাত। হঠাৎ এক রাতে সবকিছু শেষ হয়ে গেল।

এ ঘটনায় আহত ওমর সুলতান (৩৬) বর্তমানে আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বেলা ১১টার দিকে তিনি বলেন, ‘ক্যাভার্ড ভ্যানে করে মাল নিয়া গেছিলাম। ঘটনার সময় দাঁড়ায়ে আছিলাম। হঠাৎ জোরে আওয়াজ শুনি। এরপর পায়ে–হাতে লাগে। হাসপাতালে আনার পরে পায়ের দুইটা আঙুল কাইটা ফেলতে হইছে।’