নাটোরে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩২ জন। আজ মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নাটোর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আক্তার হোসেন দুর্ঘটনার হতাহত ব্যক্তির সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।

উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা
উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকের চালক রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার আবুল কালাম আজাদ (৩২), বাসের সুপারভাইজার (ঘটনার সময় তিনি বাসটি চালাচ্ছিলেন) রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সোহেল রানা (৩৬), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কাজিরহাট গ্রামের সোহাগ হোসেন (৩০), বড়কান্দি গ্রামের জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লা (৪৫), কাজিরহাট গ্রামের শাহীন হোসেন (২৫), রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কোনোপাড়া গ্রামের আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৪০) ও তাঁর মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮)।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে নিহত শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা আক্তার বনপাড়া পাটোয়ারী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এখানে আরও চিকিৎসা নিচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের রমজান আলী (২৮), দিনাজপুরের ইয়াকুব আলী (৩৪), চাঁদপুরের আব্দুস সালাম (২২)। এ ছাড়া আহত ব্যক্তিদের নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ৭–৮ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আজ মঙ্গলবার সকালে
দুর্ঘটনার পর নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আজ মঙ্গলবার সকালে

নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও বড়াইগ্রাম থানা সূত্রে জানা যায়, আজ ভোর ৪টার দিকে বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি স্পেশাল পরিবহনের একটি বাস বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে ৯ জন নিহত হন। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে আরও পাঁচজন মারা যান। আহত হন অন্তত ৩২ জন।

বাসের যাত্রী রমজান আলী বলেন, ‘আমি চালকের দুই সিট পেছনে বসেছিলাম। বাসটি ঈশ্বরদী আসার পর চালক ও হেলপার (চালকের সহকারী) পেছনে গিয়ে বসে। বাসের সুপারভাইজার তখন বাস চালাতে শুরু করেন। ঘণ্টাখানেক পরে বাসটি দুর্ঘটনায় পড়ে।’

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন জানান, নিহত ব্যক্তিদের সবার নাম–পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। পরিবারের লোকজন যাঁদের শনাক্ত করে আবেদন করেছেন, তাঁদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হচ্ছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।