চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ২৩ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছেন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। গতকাল দুপুর ১২টার পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়ায় তিনি নিজ কার্যালয়ে আটকে পড়েন। আজ বেলা ১১টা পর্যন্ত তিনি ভবন থেকে বের হতে পারেননি।

তালা দেওয়ার পাশাপাশি উপাচার্য ভবনের পানি ও বিদ্যুতের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, নতুন উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ফটকের তালা খুলবেন না তাঁরা। এদিকে চুয়েটে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ কর্মসূচি পালন করছেন।

 

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে অধ্যাপক আবু সাদাতকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘কর্মবিরতি’ পালন করে আসছেন। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই আন্দোলনের কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পরও ক্যাম্পাসে আসতে পারছিলেন না নতুন উপাচার্য। তবে গতকাল ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে উপাচার্য ভবনে শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে যান তিনি।

নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসার খবরে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে শিক্ষার্থীরা তাঁর দপ্তরের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা উপাচার্যকে কার্যালয় ত্যাগ করতে সময়সীমা বেঁধে দেন। তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রম করার পর দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা উপাচার্য ভবনের ফটকে আবারও তালা ঝুলিয়ে দেন। ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেন তাঁরা।

 

নিজ কার্যালয়ে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। গতকাল দুপুরে

নিজ কার্যালয়ে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। 

শিক্ষার্থীরা ভবনে তালা দেওয়ায় উপাচার্যসহ ১০-১১ জন ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদও রয়েছেন। অন্যরা বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে দিবাগত রাত দেড়টার দিকে একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম  বলেন, ‘আমার সঙ্গে চারজন অ্যালামনাই আছেন। একজন আমার বন্ধু, দুজন বড় ভাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রও আছে ৬-৭ জন। শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করুক, সমস্যা নেই। কিন্তু আমি দপ্তরে এলাম নয়টায়, এর দু-তিন ঘণ্টার মধ্যেই এভাবে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসের লাইন বন্ধ করে দেওয়াটা অমানবিক।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কোনো লিখিত দাবি আমার কাছে নেই। তাদের কোনো বক্তব্য সম্পর্কেও আমি অবগত নই। তারা যদি লিখিত আকারে দাবি দেয়, তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসিকে অবহিত করতাম।’

অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম, উপাচার্য, চুয়েট।

রাতে ঘুমাতে পারেননি জানিয়ে আজ বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘রাত ২টায় পুলিশের মাধ্যমে খাবার এসেছিল, সেটিই আমরা খেয়েছিলাম। আমার প্রচণ্ড মাথাব্যথা, তাই রাতে ঘুমাইনি। এ রকম অনেকেরই অনেক সমস্যা হচ্ছে।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাঁরা উপাচার্যের পদত্যাগ চান। তিনি পদত্যাগ করলেই তালা খুলে দেওয়া হবে। আন্দোলনরতদের একজন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিনি পদত্যাগ করলেই আমরা তালা খুলে দেব। তখন তিনি সসম্মানে যেতে পারবেন।’

চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহ বলেন, ‘তিনি যে এভাবে আসবেন, আমরা ভাবিনি। আমরা আমাদের অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাব। উনি তো খুব বলতেন, ওনার সঙ্গে অনেক শিক্ষক আছে, ছাত্র আছে। এখন তাঁরা তাঁকে সাহায্য করুক।’