বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ আজ। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। অভিনয়জীবনের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিজীবনও ছিল ভক্ত ও দর্শকদের আগ্রহের অন্যতম বিষয়। বিশেষ করে অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত।

সুপ্রিয়া দেবী কৈশোরে প্রথম উত্তমকুমারকে দেখেছিলেন। সে সময় উত্তম ছিলেন পাড়ার পরিচিত মুখ এবং মঞ্চনাটকে অভিনয় করতেন। তিনি ছিলেন সুপ্রিয়ার ভাইয়ের বন্ধু। তবে তখনো তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ পরিচয় তৈরি হয়নি।
পরবর্তী সময়ে সুপ্রিয়াদের পরিবার কলকাতায় চলে আসে। ‘বসু পরিবার’ ছবিতে কাজ করতে গিয়ে উত্তমকুমার ও সুপ্রিয়া দেবীর প্রথম পরিচয় হয়। এরপর তাঁদের একসঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়।
ব্যক্তিজীবনে উত্তমকুমার গৌরী চট্টোপাধ্যায়কে এবং সুপ্রিয়া দেবী বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জিকে বিয়ে করেছিলেন। পরে সুপ্রিয়ার সেই সংসার ভেঙে যায়। অন্যদিকে উত্তমকুমারের দাম্পত্য জীবন নিয়েও নানা টানাপোড়েনের কথা বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে।
সুপ্রিয়া দেবীর অভিনয়ের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তমকুমারের নায়িকা হিসেবেও তিনি অভিনয় করেন। ‘উত্তর মেঘ’, ‘সোনার হরিণ’ ও ‘শুন বরনারী’সহ বেশ কয়েকটি ছবিতে তাঁদের জুটি দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়।

উত্তমকুমারের লেখা ‘আমার আমি’ বইয়েও সুপ্রিয়া দেবীর কথা উঠে এসেছে। সেখানে তাঁর জীবনের কঠিন সময়ে সুপ্রিয়ার সেবাযত্ন ও মানসিক আশ্রয়ের কথা উল্লেখ করেন উত্তমকুমার।
সুপ্রিয়া দেবী তাঁর ‘আমার জীবন আমার উত্তম’ বইয়ে দাবি করেন, ১৯৬২ সালের ২ ডিসেম্বর ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি মেনে তাঁরা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তবে গৌরী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে উত্তমকুমারের আইনগত বিবাহবিচ্ছেদ না হওয়ায় সেই বিয়ের আইনগত স্বীকৃতি ছিল না।
তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে সে সময় নানা সমালোচনাও হয়েছিল। এমনকি উত্তমকুমারের ঘনিষ্ঠজনদের কেউ কেউ এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি। তবে এসব বিরোধ ও সমালোচনার মধ্যেও উত্তমকুমার ও সুপ্রিয়া দেবী একসঙ্গে ছিলেন।
প্রায় ১৭ বছর সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে সংসার করেন উত্তমকুমার। ১৯৮০ সালে তাঁর মৃত্যুর পরও সুপ্রিয়া দেবী দীর্ঘদিন উত্তমকুমারের স্মৃতি আঁকড়ে জীবন কাটিয়েছেন। তাঁদের প্রেম, সম্পর্ক ও একসঙ্গে কাটানো সময় বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও আলোচিত একটি অধ্যায়।